Templates by BIGtheme NET
Home » কৃষি অর্থনীতি ও বাণিজ্য » ১১ জীবন বীমা কোম্পানি জীবনহারা

১১ জীবন বীমা কোম্পানি জীবনহারা

ক্রাইমভিশনবিডি ডেস্ক:

দেশে বেসরকারি খাতের এক-তৃতীয়াংশ জীবন বীমা কোম্পানিতেই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নেই। এগুলো পরিচালিত হচ্ছে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে। তিন-থেকে ছয় মাসের বেশি সময় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকতে পারবে না- বীমা কোম্পানি আইনে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে কোম্পানিগুলো।

 

দেশে বর্তমানে জীবন বীমা কোম্পানি সংখ্যা ৩২টি। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নেই বলে জানা গেছে। ৮টি প্রতিষ্ঠানে সিইও নিয়োগের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

 

 

 

বিধান হলো- নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো বীমা কোম্পানি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ পূরণ না করলে সরকারি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে।

 

এখন যেসব বীমা কোম্পানি ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে চলছে তার মধ্যে রয়েছে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ, যমুনা লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল, ন্যাশনাল লাইফ ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ছাড়া বাকি ১০টি বীমা কোম্পানিই ২০১৩ ও ২০১৪ সালে অনুমোদন পায়।

 

জানা গেছে, ন্যাশনাল লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, বেস্ট লাইফ এবং এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার মেয়াদ তিন মাসের পর আর তিন মাসের বর্ধিত সময় চলছে। বাকি বীমা কোম্পানিগুলো সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে ৭ বছর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। এর কোনো কোনোটি আবার প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া চলছে।

 

 

বীমা কোম্পানি আইনের ৮০ ধারার ৪ উপধারায় বলা হয়েছে, বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ একাধারে তিন মাসের অধিক সময়ের জন্য শূন্য রাখা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে কর্তৃপক্ষ অপরিহার্য পরিস্থিতি বিবেচনায় উক্ত সময়সীমা আরো তিন মাস বাড়াতে পারবে।

 

৫ উপধারায় বলা হয়েছে, উপধারা ৪ এর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বীমা কোম্পানি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ পূরণ না করলে কর্তৃপক্ষ কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। এবং কর্তৃপক্ষ যেটা নির্ধারণ করবে সে অনুযায়ী কোম্পানিকে উক্ত প্রশাসকের বেতন ও অনান্য সুবিধাসহ যাবতীয় ব্যয় পরিশোধ করতে হবে।

 

এদিকে আইডিআরএর সূত্রমতে, ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই অনুমোদন লাভের পর থেকেই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া বীমা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বর্তমানে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জিয়াউল হক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল তিনি কোম্পানিটিতে যোগদান করে এই দায়িত্ব নেন।

 

 

এর আগে কোম্পানিটির ডিএমডি এমদাদ উল্লাহ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যক্রম চালিয়ে নেন। আর ২০১৫ সাল থেকে মুখ্য নির্বাহীর চলতি দায়িত্বে ছিলেন শহিদুল ইসলাম। মুখ্য নির্বাহী নিয়োগের সব শর্ত পূরণ না করায় তিনি অনুমোদন পাননি। ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন কামরুল হাসান। তবে কিছুদিন পর তিনি কোম্পানিটি থেকে পদত্যাগ করেন।

 

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদ শূন্য হয় গত বছরের মার্চে। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে বীমা কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অনুমোদন লাভ করেন মো. মাহফুজুল বারী চৌধুরী। গত বছরের মার্চে তার মেয়াদ শেষ হয়। বর্তমানে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

 

২০২০ সালের ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মজুমদার। এরপর থেকে শূন্য রয়েছে বিমা কোম্পানিটির এই শীর্ষ পদ।

 

 

মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চলতি দায়িত্বে রয়েছেন কোম্পানিটির ডিএমডি মোহাম্মদ সাইদুল আমিন। গত বছরের ২৭ জুলাই থেকে তাকে সিইওর চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়।

 

মোহাম্মদ সাইদুল আমিন বলেন, ‘আমি ভারপ্রাপ্ত মূখ্যনির্বাহী কমর্তকর্তা হিসেবে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু অনেক আগেই মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্যদ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়োগের সুপারিশ করে আইডিআরএ পাঠিয়েছে।’

 

আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদ শূন্য হয়েছে ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট থেকে। কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রাইম ইসলামী লাইফে যোগদান করলে শূন্য হয়ে পড়ে সিইও পদ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন নূরুল আলম সিদ্দিকি।

 

বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে রয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম। তবে তার ভারপ্রাপ্তের মেয়াদ ছয় মাস এখনো হয়নি।

 

যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডলের মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল। এরপর থেকে মুখ্য নির্বাহী শূন্য হয়ে আছে বেসরকারি এ বীমা প্রতিষ্ঠানের। চলতি দায়িত্বে রয়েছেন কামরুল হাসান খন্দকার।

 

প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. কিশোর বিশ্বাস। গত বছরের ২১ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিমা কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

 

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র আইচের মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের জুনে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন মীর রাশেদ বিন আমান।

 

জানা যায়, দেশে জীবন বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য কোম্পানি থেকে নাম পাঠানো হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। তারাই অনুমোদন দিলে নিয়োগ সম্পন্ন হয়। অনেক কোম্পানিতে সিইওি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালক (আইন অনুবিভাগ) এস এম শাকিল আখতার ঢাকা টাইমসকে বলেন, এই পদে নিয়োগের জন্য কোম্পানি যাকে সুপারিশ করে পাঠায় তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে একটু বেশি সময় লেগে যায়।

 

সেটা কত দিন বা কত বছর? আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালক বলেন, যাকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, ৬ মাসের আগেই তারা আবেদন করে। কিন্তু তিনি মানি লন্ডারিং কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কি না, ঋণ খেলাপি কি না এসব যাচাইয়ে সময় চলে যায়। আর ছয় মাসের মধ্যে আবেদন করলে সেটাকে আন্ডার প্রসেসিং হিসেবে ধরা হয়, সে ক্ষেত্রে ৬ মাসের পর আরো কয়েক মাস লাগতে পারে।’

Facebook Comments