Templates by BIGtheme NET
Home » প্রবাসী বাংলা » হাসপাতালে ঘাটে ঘাটে ঘুষ : চিকিৎসায় বিলম্বে শিশু মুত্যু

হাসপাতালে ঘাটে ঘাটে ঘুষ : চিকিৎসায় বিলম্বে শিশু মুত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হাই ফিভার ও দুর্বলতার কারণে ১০ মাসের ছেলে কৃষ্ণকে নিয়ে শহরের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন শিব ও সুমিতা দত্ত। ডাক্তার শিশুটিকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর সেই কাজটি করতে গিয়েই একের পর এক ঘুষখোরদের খপ্পরে পড়েন এই দম্পতি। সরকারি হাসপাতালে প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন ঘুষের দাবি দেখে তাজ্জব হয়ে গেলেও, সন্তানকে সুস্থ করতে সব টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন গরিব বাবা-মা। তবে, এই কথাচালাচালিতে দেরি হয়ে যায়। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ঘুষের টাকার দরদাম করতে গিয়ে ইঞ্জেকশন দিতে অনেক দেরি করে ফেলে হাসপাতাল কর্মী। আর ততক্ষণে প্রাণ হারায় ওই নিস্পাপ শিশুটিকে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌ থেকে ১৩০ কিমি দূরে বাহারাইচের একটি হাসপাতালে। ১০ মাসের অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে শহরের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালে এই ওয়ার্ড থেকে ওই ওয়ার্ড ঘুরেছেন বাবা-মা। নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতাল কর্মী- সবার কাছেই তাদের শুনতে হয়েছে, টাকা দিন। শিশুটিকে ভর্তির জন্য টাকা, তাকে হাসপাতালের বেডের ব্যবস্থা করার জন্য টাকা, এমনকি জরুরি ইঞ্জেকশন দেয়ার জন্যও টাকা। কেউ চাইছেন ১০০, ২০০, ৫০০। আবার কেউ ৩০-৫০। সুমিতার অভিযোগ, ‘যার কাছেই যাচ্ছি, তিনিই টাকা চাইছেন। প্রথমে ডাক্তারের নির্দেশ লিখিত আকারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করার জন্য টাকা চান নার্স। এরপর বাচ্চাদের ওয়ার্ডে বিছানায় ছেলেটাকে শুইয়ে দেয়ার জন্য ৩০ টাকা চান পরিচ্ছন্নতা কর্মী।’ হাসপাতালের এক কর্মী শিশুটিকে ইঞ্জেকশন দেয়ার জন্যও টাকা চান বলে অভিযোগ। ছেলের নিথর দেহটি কোলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সুমিতা জানালেন, ‘আমি তাঁর থেকে একটু সময় চাই…তিনি যত টাকা চান, তত টাকা দিয়ে দেব বলে তাকে কথা দিই।’ তবে, এই কথাচালাচালিতে ইঞ্জেকশন দিতে দেরি হয়ে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ সুমিতার। পেশায় দিনমজুর শিবের আক্ষেপ, ‘সবাই ঘুষ চাইল। শুধু ডাক্তাররা যেহেতু প্রাইভেটে প্র্যাকটিস করেন, সেজন্য তাঁরা বোধহয় টাকা চাননি। আমার মনে হয়, জমিজমা বিক্রি করে হলেও বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েই প্রত্যেকের চিকিৎসা করানো উচিত।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় পুলিশে অভিযোগ জানাননি শিব ও সুমিতা। ইঞ্জেকশন দেরিতে দেয়াতেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই তারা এক কর্মীকে বরখাস্ত করেছে

Facebook Comments